স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘অসচ্ছল নারীদের মাঝে সেলাই মেশিনের সঙ্গে বসুন্ধরা শুভসংঘ ফলদ ও ঔষধি গাছের চারাও দিচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আমার নির্বাচনী এলাকায় বসুন্ধরা শুভসংঘ প্রশিক্ষণ দিয়ে সেলাই মেশিন বিতরণের এই মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করায় তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই সেলাই মেশিনের মাধ্যমে আয় করে নারীরা সংসারের হাল ধরতে পারবেন। নিজেরা কাপড় সেলাই করে বেঁচে যাওয়া টাকা সন্তানদের পড়াশোনা ও কল্যাণে খরচ করতে পারবেন, যার মাধ্যমে সামগ্রিক সংসারের উন্নতি ঘটবে।
’বসুন্ধরা শুভসংঘ মনোহরদী উপজেলা শাখার সভাপতি ডা. মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান মনির। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সজিব মিয়া, মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা, বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. আমিনুর রহমান সরকার দোলন, মনোহরদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদরুল ইসলাম মোল্লা বাবুল, মনোহরদী উপজেলা শুভসংঘের উপদেষ্টা মো. ইব্রাহিম তালুকদার দিদার প্রমুখ।
এর আগে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায়ও অনুরূপ এক মানবিক আয়োজনে আরো ৩০ জন অসচ্ছল নারীর স্বপ্নপূরণের সারথি হয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
শিবপুর উপজেলা অডিটরিয়ামে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিন মাসব্যাপী বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে নারীদের হাতে সেলাই মেশিন, বই, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। শিবপুরের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী। তিনি বলেন, ‘অসচ্ছল নারীদের কর্মমুখী করে তোলার এই উদ্যোগ মানবতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেলাই মেশিনের মাধ্যমে নারীরা নিজেরা আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের দায়িত্বে ভূমিকা রাখতে পারবেন।’ এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হারিস রিকাবদার, থানার ওসি মোহাম্মদ কোহিনুর মিয়া প্রমুখ।
ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাঁদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং পারিবারিক আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা এখন নিজ বাড়িতে কিংবা ছোট পরিসরে সেলাইয়ের কাজ শুরু করে পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করারও সুযোগ পাবে।’
স্বামী হারিয়ে তিন সন্তান নিয়ে দিশাহারা হওয়া জুলেখা আক্তার ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে সানজিদা আক্তার সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, এই মেশিনটি শুধু কাপড় কাটার যন্ত্র নয়, এটি তাঁদের কাছে এক নতুন জীবনের অপার সম্ভাবনা। সেলাই মেশিন ও গাছের চারা পেয়ে উচ্ছ্বসিত মনোহরদীর উপকারভোগী আছিয়া আক্তার বলেন, ‘বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সেলাই মেশিন আমাদের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে আয়ের একটি স্থায়ী উেসর অপেক্ষায় ছিলেন। এই মেশিন কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে পারব।’
অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা নিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যারের নির্দেশনায় গ্রামীণ নারীদের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বাবলম্বী করতে তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেলাই মেশিন বিতরণ করছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। গত তিন বছরে আমরা সারা দেশে তিন হাজারের বেশি সেলাই মেশিন বিতরণ করেছি। সেলাই মেশিন ছাড়াও বিভিন্নভাবে বসুন্ধরা গ্রুপ অসহায়দের মাঝে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভবিষ্যতেও আমাদের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’
বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান মনির বলেন, ‘আমরা সারা দেশের মতো নরসিংদী জেলার তৃণমূল পর্যায়েও বসুন্ধরা শুভসংঘের শুভ কাজগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছি। শিবপুর ও মনোহরদীতে সেলাই মেশিনসহ বিভিন্নভাবে অসচ্ছলদের স্বাবলম্বী করতে সহযোগিতা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তা পুরো জেলায় অব্যাহত থাকবে। দেশের যেকোনো সংকটে বসুন্ধরা শুভসংঘ সাহায্য ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর।’